শনিবার (২১ মার্চ) দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর আরাদ ও দিমোনা শহরে এই হামলা আঘাত হানে। আহতদের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ৫ বছর বয়সী এক শিশু কন্যা রয়েছে। তাদের দুজনের অবস্থাই গুরুতর বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ নিহতের সম্ভাব্য প্রাথমিক খবর দিলেও, এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতি পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিমোনায় অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বোমার টুকরো বা শ্র্যাপনেলের আঘাতে এক কিশোর গুরুতর জখম হয়েছে। অন্যদিকে আরাদে অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর এবং ১৪ জন মাঝারি ধরনের জখম পেয়েছেন। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বীরশেবার সোরোকা হাসপাতালে ‘ম্যাস ক্যাজুয়ালটি ইভেন্ট’ বা বহু হতাহতের ঘটনা ঘোষণা করা হয়েছে এবং জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো হামলার শিকার বিভিন্ন স্থানে ছুটে গেছে। ‘ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম’-এর প্রধান নির্বাহী এলি বিন জানিয়েছেন, আরাদে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ভেতরে কিছু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতিকে “বিশাল মাত্রার বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, কয়েকশ কেজি ওজনের বিস্ফোরকবাহী একটি ক্ষেপণাস্ত্র আবাসিক ভবনগুলোর মাঝখানে আছড়ে পড়ে। এতে ভবনগুলোর কাঠামোগত ক্ষতি হয় এবং আশপাশের স্থাপনাগুলোতে আগুন ধরে যায়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সতর্কতামূলক সাইরেন বাজার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে। তবে এই ভিডিওর সময়কাল স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, আরাদে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ অনুসন্ধানে তারা তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি হোম ফ্রন্ট কমান্ডও ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি নিয়ে একটি আলাদা তদন্ত শুরু করেছে। আইডিএফ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফফি ডেফরিন ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করেছিল, কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকাতে পারেনি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করব এবং এ থেকে শিক্ষা নেব। এটি কোনো বিশেষ বা অপরিচিত ধরনের অস্ত্র নয়।” তিনি আরও বলেন, “আজ রাতে আমাদের মন পড়ে আছে আরাদ ও দিমোনার বাসিন্দাদের কাছে।”
যাচাই করা হয়নি এমন কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ ভেতরে থাকা অবস্থায় একটি ভবন আংশিক ধসে পড়েছে এবং আরেকটিতে আগুন ধরে গেছে। উদ্ধার অভিযান চলায় মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরাদে হামলার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে একে “আমাদের ভবিষ্যতের লড়াইয়ে এক অত্যন্ত কঠিন সন্ধ্যা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সব রণাঙ্গনে আমাদের শত্রুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখব।”
ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ও হোম ফ্রন্ট কমান্ড দিমোনায় আগের একটি হামলার ঘটনাও খতিয়ে দেখছে। নেগেভ মরুভূমির এই শহরটি বীরশেবা থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এবং এখানেই রয়েছে ‘শিমন পেয়ারেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার’। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, এটিই ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক কর্মসূচির মূল কেন্দ্র।
সন্ধ্যার শুরুর দিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বুশেহর ও নাতাঞ্জে তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথিত হামলার জবাবে দিমোনায় এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে ইসরায়েল নাতাঞ্জে কোনো হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি এক বিবৃতিতে বলেছে, “শত্রুরা আবারও একটি অবিস্মরণীয় শিক্ষা পেয়েছে।” যদিও এই বিবৃতিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এতে আরও বলা হয়, “ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে কোনো এলাকাই নিরাপদ নয়।” আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, দিমোনা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর সম্পর্কে তারা অবগত, তবে পারমাণবিক স্থাপনার কোনো ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সংস্থাটি আরও জানায়, সেখানে তেজস্ক্রিয়তার কোনো অস্বাভাবিক মাত্রা ধরা পড়েনি এবং তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।
নাতাঞ্জ স্থাপনায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার ভূগর্ভস্থ সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে, যা গত বছরের জুনের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নাতাঞ্জে হামলার পর জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি “যেকোনো ধরনের পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সামরিক সংযম প্রদর্শনের” আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ইসরায়েলের দিমোনায় রাতভর একাধিকবার বিমান হামলার সাইরেন বেজেছে, যা চলমান হুমকির তীব্রতা নির্দেশ করে। অথচ সপ্তাহের শুরুতে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড দিমোনাসহ দেশের কিছু অংশে যুদ্ধকালীন বিধিনিষেধ শিথিল করে স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দিয়েছিল।
সূত্র : দা গার্ডিয়ান
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!