পাকিস্তান, চীন, বেইজিং, ডলার পরিশোধ, ইসলামাবাদ, বকেয়া অর্থ,   জ্বালানি, বিদেশি বিনিয়োগ,
পাওনা ২২ কোটি ডলার পরিশোধে পাকিস্তানকে তাগাদা চীনের।   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের কাছে বকেয়া ২২ কোটি ডলার দ্রুত পরিশোধের দাবি জানিয়েছে চীন। বেইজিং সতর্ক করে বলেছে, এই বকেয়া পরিশোধে আরও দেরি হলে পাকিস্তানের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম বিভাগের সূত্র জানায়, বেইজিং থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইসলামাবাদে জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন, যেখানে বকেয়া অর্থ অবিলম্বে পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি সামনে এনেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

বকেয়াটি মূলত চীনা কোম্পানি ইউনাইটেড এনার্জি পাকিস্তান (ইউইপি)-এর পাওনা। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন ২৬০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে পাকিস্তানের সুই সাউদার্ন গ্যাস কোম্পানি (এসএসজিসি)-কে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা না পাওয়ায় ইউইপি তীব্র তারল্য সংকটে পড়েছে। এমনকি সম্প্রতি কর্মী ছাঁটাই করতেও বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এসএসজিসি অবশ্য দায় এড়িয়ে বলছে, ফেডারেল রাজস্ব বোর্ড (এফবিআর)-এর কাছে তাদের শত শত কোটি রুপির রাজস্ব আটকে আছে। সেই অর্থ ছাড় না পেলে তারা ইউইপির বকেয়া পরিশোধ করতে পারবে না।

ইউইপি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১১ সালে বিপি পাকিস্তান অধিগ্রহণের মাধ্যমে দেশটিতে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১২ সালে চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি ডলার ঋণ নিয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে। পরে ২০১৮ সালে ১৯ কোটি ২০ লাখ ডলারে পাকিস্তানের ওএমভি গ্যাসক্ষেত্র কিনে নেয় তারা। বর্তমানে সিন্ধু প্রদেশের বাদিন, হায়দ্রাবাদ, ঠাট্টা, মিরপুরখাস ও খয়েরপুরসহ একাধিক জেলায় গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে ইউইপি।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি কোম্পানির পাওনার বিষয় নয়; বরং পরিস্থিতিটি পাকিস্তানের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তারল্য সংকট ও নিয়ন্ত্রক চাপের মধ্যে থাকা দেশটির জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে হলে এই বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা ছাড়া বিকল্প নেই।

সূত্র: জিও নিউজ

এসআর/এসএস/ আরটিএনএন