বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ ও দুর্ঘটনা এড়াতে এসির প্রি-চেকআপ জরুরি।
বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ ও দুর্ঘটনা এড়াতে এসির প্রি-চেকআপ জরুরি।   ছবি: সংগৃহীত

 

কেন সার্ভিসিং জরুরি?

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ফিল্টারে ধুলা জমে। এতে কম্প্রেসরের ওপর চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।

ইনডোর ইউনিটে পোকামাকড় বাসা বাঁধতে পারে। পিসিবিতে পিঁপড়া বা টিকটিকি মারা অবস্থায় সার্ভিসিং ছাড়া এসি চালালে সার্কিট পুড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

মরে থাকা পোকামাকড় ঘরে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।

সার্ভিসিংয়ের সময় পরীক্ষা করা হয় বৈদ্যুতিক সকেট, ইনডোর ইউনিটের পিসিবি ও জ্যাক সংযোগ এবং আর্থিং। ইনডোর ইউনিট খুলে কনডেনসার পরিষ্কার করা হয়। আউটডোর ইউনিটে কনডেনসার, গ্যাস পাইপ ও কম্প্রেসর পরিষ্কার করা হয়। রেফ্রিজারেটরের চাপ ঠিক আছে কি না এবং গ্যাস লিকেজ আছে কি না তাও দেখা হয়। এতে এসির সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স নিশ্চিত হয়।

কত সময় পর সার্ভিসিং করতে হবে?

বাসায় দিনে ১৪–১৫ ঘণ্টা চলা এসির ক্ষেত্রে বছরে দুবার সার্ভিসিং করানো উচিত: গরমের শুরুতে ও গরমের মাঝামাঝি।

রাস্তার পাশে বসবাস করলে ধুলাবালু বেশি জমে, সেক্ষেত্রে বাড়তি সার্ভিসিং দরকার।

অফিস বা বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৩–৪ মাস অন্তর অন্তর সার্ভিসিং করা উচিত।

শিল্পকারখানায় সপ্তাহে একবার রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

সার্ভিসিংয়ের ধরন

বেসিক ক্লিনিং – ব্যবহারকারী নিজেই করতে পারেন; ফিল্টার ধুয়ে আবার লাগানো।

মাস্টার ক্লিনিং – দক্ষ টেকনিশিয়ান করে থাকে; ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটে জমে থাকা ধুলা–ময়লা প্রেশার ওয়াসার দিয়ে পরিষ্কার।

ডাউন সার্ভিস – ওয়ার্কশপে ইনডোর ও আউটডোর ইউনিট খুলে প্রতিটি যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করা হয়। রেফ্রিজারেটরের গ্যাস ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খরচ

অনেক বড় ব্র্যান্ডের এসি গ্রাহকরা দুই বছর পর্যন্ত বিনা খরচে সার্ভিসিং পান।

সাধারণ সার্ভিসিং খরচ ৭০০–১,০০০ টাকা।

মাস্টার সার্ভিসিং খরচ ২,৫০০–৩,০০০ টাকা।

গ্যাস রিফিলিং প্রয়োজন হলে খরচ ৩,০০০–৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

গরম শুরু হওয়ার আগে প্রি-সার্ভিসিং করানো শুধু এসির পারফরম্যান্স বাড়ায় না, বরং বিদ্যুৎ খরচ কমায় এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সাহায্য করে।