জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের সব আবেদন এখন থেকে আর মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি হবে না; এসব আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হবে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সহকারী পরিচালক মুহা. সরওয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আদেশে জানানো হয়, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর নতুন এসওপি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেটি এখন কার্যকর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, জন্ম তারিখ অথবা জন্ম তারিখসহ অন্য যেকোনো তথ্য সংশোধনের আবেদন ‘ঘ’ ক্যাটাগরি হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর আগে আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা আবেদনগুলোর ধরন অনুযায়ী ‘ক’, ‘খ’ কিংবা ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে মাঠ পর্যায়েই নিষ্পত্তি করতেন। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় এসব সংবেদনশীল সংশোধন আবেদন কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকির আওতায় আনা হয়েছে। ফলে আবেদনকারীদের তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন ডিজি পর্যায় থেকেই দেয়া হবে।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির আগে মাঠ পর্যায়ে জমা পড়া এবং পূর্বেই ক্যাটাগরি নির্ধারিত আবেদনগুলোও নতুন নিয়মের আওতায় আনতে হবে। সেসব আবেদন পুনরায় শ্রেণিবিন্যাস করে ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করতে হবে। এরপর এনআইডি উইংয়ের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে নিষ্পত্তির জন্য প্রেরণ করবেন।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রথমত, জন্ম তারিখ সংক্রান্ত যেসব আবেদন আগে ‘ক-১’ থেকে ‘গ’ ক্যাটাগরিতে ছিল, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের (এআরইও) কাছে পাঠাতে হবে।
দ্বিতীয়ত, প্রাপ্ত তালিকার ভিত্তিতে এআরইওরা ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট আবেদনগুলো ‘ঘ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করবেন। তৃতীয়ত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সামনে রেখে সংশোধন কার্যক্রম সীমিত থাকায় বর্তমানে জমে থাকা অনিষ্পন্ন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসি মনে করছে, কেন্দ্রীয়ভাবে ক্যাটাগরি নির্ধারণ এবং ডিজি পর্যায়ে নিষ্পত্তির মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে জন্ম তারিখ সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে একক মানদণ্ড অনুসরণ করলে অনিয়ম বা ভিন্নমুখী সিদ্ধান্তের সুযোগ কমবে।
তবে মাঠ পর্যায় থেকে সব আবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠাতে হওয়ায় কাজের চাপ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে নাগরিক সেবা সচল রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে ইসি জানিয়েছে। সব আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!