পোশাক কারখানা, বেতন-ভাতা
পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার দাবি করেছে বিজিএমইএ।   ছবি: আরটিএনএন

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও উৎসব বোনাস প্রায় পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

সংগঠনটির তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দিয়েছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা এবং ঈদ বোনাস দিয়েছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা। বাকি কয়েকটি কারখানায় এখনো পরিশোধ প্রক্রিয়া চলছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, বিজিএমইএর আওতাধীন কারখানাগুলোর মধ্যে বর্তমানে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই, যেখানে ফেব্রুয়ারির বেতন নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা রয়েছে।

তবে খাতটি এখনো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়ছে রপ্তানিতে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার কমেছে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য নেমেছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এর সঙ্গে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

তিনি বলেন, দেশীয় বাস্তবতাও শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। গত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবু নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। পাশাপাশি উচ্চ সুদহার, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট এবং চলতি মূলধনের ঘাটতিও উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিকদের প্রতি দায়বদ্ধতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা—এ কথা তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি। তিনি বলেন, অনেক মালিক ঋণের চাপের মধ্যেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে তহবিল জোগাড় করে বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করেছেন। আর্থিক সংকটে থাকা কিছু কারখানার ক্ষেত্রে বিজিএমইএ, ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম দিয়েছে। একই সঙ্গে ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ কমাতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ১৭ মার্চ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি কারখানাগুলো আজ ও আগামীকালের মধ্যেই ছুটি দেবে বলে জানানো হয়েছে।