আসিফ
এনসিপি’র মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।   ছবি: আরটিএনএন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মুখপাত্রের ভূমিকা পালন করছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন। নির্বাচনের কিছুদিন আগে পদত্যাগ করে নানা জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি যোগ দেন এনসিপিতে।

২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এনসিপির এক বছরের খেরোখাতা ও নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে আরটিএনএন’র মুখোমুখি হন আসিফ মাহমুদ। তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আরটিএনএন’র নির্বাহী সম্পাদক অরণ্য গফুর

 

আরটিএনএন: প্রথমেই জানতে চাই, কেমন আছেন?

আসিফ মাহমুদ: এই তো, আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

আরটিএনএন: এনসিপির এক বছর পূর্ণ হয়ে গেল। যদিও আপনি শুরু থেকে এনসিপির সঙ্গে ছিলেন না, তবে মানসিকভাবে ছিলেন বলা যায়। গণঅভ্যুত্থানের গর্ভ থেকে এনসিপির জন্ম। সেই বিপ্লবকে ধারণ করার পাশাপাশি প্রচলিত রাজনীতিতে থিতু হওয়া ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গত এক বছরের পথচলাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আসিফ মাহমুদ: অবশ্যই গত এক বছরে আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। শুধু আমাদের জন্য নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্যই রাজনৈতিকভাবে এটি ছিল খুবই ইভেন্টফুল সময়।

গণঅভ্যুত্থানের পর এত দ্রুত একটি দল গঠন করা, সবাইকে সংগঠিত করা এবং এক বছরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নেওয়া—এগুলো সহজ বিষয় ছিল না। এর মধ্যে আবার জোট প্রক্রিয়াও হয়েছে। আমাদের ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন।

মোটামুটি ২২ লাখের মতো মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন—তাও মাত্র ৩০টি আসনে। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এনসিপি স্বল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু অর্জন করেছে, তা আমাদের জন্য যথেষ্ট।

আমার মনে হয়, এক বছর বয়সে এবং প্রথম নির্বাচনে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্য কোনো দল এত দ্রুত সময়ে এ ধরনের সাফল্য আনতে পারেনি। এটি আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। সামনে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং নেতা-কর্মীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।

আরটিএনএন: অনেকেই মনে করেন রাজনৈতিক দল গঠন করায় জুলাই আন্দোলনের শক্তি কমে গেছে। আন্দোলনের সেই জনআবেগ ধরে রাখতে এনসিপি কোথায় সফল এবং কোথায় ব্যর্থ?

আসিফ মাহমুদ: রাজনৈতিক দল গঠন না করলে জুলাইকে টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে যেত। মানুষ তো কোনো না কোনো মাধ্যমে সংগঠিত থাকে। সেই সংগঠিত হওয়ার জায়গা যদি না থাকে, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান মিলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল।

সেই জায়গা থেকে আমরা শুরু থেকেই বলেছি—নানা ধরনের মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে।

এই কারণে আরও অনেক প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে, তাদের আমরা স্বাগত জানিয়েছি। এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে এবং এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মাধ্যমেই জুলাইয়ের শক্তিগুলো একত্রিত থাকতে পারে। তারা গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কথা বলতে পারে, তাদের কণ্ঠ তুলে ধরতে পারে।

তবে একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক লড়াইও চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

আরটিএনএন: জুলাইকে ধারণ করতে এনসিপিও ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগও আছে। এটাকে কি আপনি অযৌক্তিক মনে করেন?

আসিফ মাহমুদ: সমালোচনা তো সবকিছু নিয়েই আছে, আর এনসিপির সমালোচনা অনেক সময় বেশ আকর্ষণীয়ও লাগে। কখনো কখনো তা থেকে মজাও পাওয়া যায়।

যেমন—নেপালে ছাত্ররা দল করছে না, রাজনীতি করছে না—এমন একটি খবর এল। তখন বাংলাদেশের অনেক বুদ্ধিজীবী টকশো ও ফেসবুকে লিখলেন, নেপালের ছাত্ররা কত ভালো—তারা দল করছে না।

আবার যখন নেপালের ছাত্রদের দল সরকার গঠন করল, তখন বলা হলো—নেপাল পারল, এনসিপি পারল না।

তাই এনসিপির সমালোচনাটা অনেকটা “যাকে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা”র মতো। আপনি যেদিকেই যান, সেদিকেই সমালোচনা করা হবে।

তবে এনসিপি কাজের মাধ্যমে এবং ফলাফলের মাধ্যমে তার প্রমাণ দেবে। নির্বাচনের ফলই তার বড় উদাহরণ। অনেকে বলেছিল এনসিপি বিলুপ্ত হয়ে যাবে, অস্তিত্ব থাকবে না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিয়ে সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।

আরটিএনএন: এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ কি দলের অগ্রযাত্রায় বাধা তৈরি করেছে?

আসিফ মাহমুদ: আমরা যখন মাঠে মানুষের সঙ্গে কথা বলি, তখন কাউকে বলতে হয় না যে এসব ভুয়া। মানুষ নিজেরাই বলে—“তোমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।”

যেমন—আমাদের সাবেক সদস্য গোলাম সালাউদ্দিন তানভির কিংবা আমার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময়ের এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। কিন্তু দুদক প্রায় এক বছর অনুসন্ধান করে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি।

তারপরও প্রপাগান্ডার মাধ্যমে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় কিছু মিডিয়াও এগুলোকে উসকে দিয়েছে। আমরা দেখেছি, তাদের অনেককে বিভিন্ন জায়গা থেকে লিখিতভাবে এসব করতে বলা হতো।

বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা বুঝতে পারে কেন এসব করা হচ্ছে।

আমরা দেখেছি, ন্যারেটিভ তৈরি করে খালেদা জিয়াকেও এতিমের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থান না হলে হয়তো তিনি কারাবন্দী অবস্থাতেই জীবন শেষ করতেন।

তো যখন কারো বিরুদ্ধে লেজিট বা বৈধ ভাবে আক্রমণ করার কোনো কিছু পাওয়া যায় না বা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয় তখন এই ধরনের ন্যারেটিভ উৎপাদন করে ইমেজ নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। মানুষের কাছে এই ম্যাসেজটা খুব বেশি ক্লিয়ার যখন আমরা তাদের সাথে কথা বলি, তারা নিজেরাই বলে যে- ’এগুলা তো আমরা দেখলেই বুঝি যে এগুলো ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।’

 

আরটিএনএন: শুরু থেকেই দলীয় আদর্শ নিয়ে এনসিপির মধ্যে দোদুল্যমানতা দেখা গেছে—কখনো সেক্যুলার, কখনো বামঘেঁষা, কখনো সেন্ট্রিস্ট। এখন কি মধ্যপন্থী অবস্থানই চূড়ান্ত?

আসিফ মাহমুদ: আমরা শুরু থেকেই মধ্যমপন্থার কথা বলে আসছি। সেন্ট্রিস্ট রাজনীতি, ইনক্লুসিভনেস এবং ডাইভার্সিটির ওপর জোর দিয়েছি।

রাষ্ট্রের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠী এবং নারীদের অংশগ্রহণের ভিত্তিতেই আমরা রাজনীতি গড়ে তুলতে চাই।

বিভিন্নসময় রাজনীতির স্ট্র্যাটিজিক ডিসিশন এবং অবস্থান আমাদেরকে নিতে হয়। জোটসহ অনেক ধরনের সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হয়, যা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে। প্রায় সকল দলের সাথে সকল দলের জোট হয়েছে বলা যায়। ফলে এটা খুব স্ট্র্যাটিজিক সিদ্ধান্ত, যার সাথে আমাদের আদর্শের কোনো সম্পর্ক নাই। আমাদের আদর্শিক রাজনীতি, যেটা আমরা বলে আসছি, সেটাই আমরা সামনের দিনেও ধারণ করে চলবো।

আরটিএনএন: জামায়াতে ইসলামী’সঙ্গে আসন সমঝোতার কারণে কয়েকজন নারী নেত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। এটি কি সাংগঠনিক বা আদর্শিক দুর্বলতার ইঙ্গিত?

আসিফ মাহমুদ: একজন-দুজন ছাড়া বড় কোনো ভাঙন হয়নি। জোট প্রক্রিয়াটি কিছুটা তাড়াহুড়োর মধ্যে হয়েছিল, ফলে দলের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করার সময় কম ছিল।

তবে দলের কয়েকটি ফোরামে আলোচনা করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়ই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আমরা এটিকে কৌশলগত বা নির্বাচনী জোট হিসেবেই দেখি, আদর্শিক জোট হিসেবে নয়।

তবে অবশ্যই যেহেতু আমরা নিজেদেরকে ইনক্লুসিভ এবং ডাইভার্সিফাইভ পলিটিকাল পার্টি বলি, আমাদের এখানে বিভিন্ন মতাদর্শের এবং বিভিন্ন ধরণের চিন্তার মানুষজন আছেন। ফলে মতামত সবসময় একরকম হবে না বা মিলবে না, এটাই স্বাভাবিক। আর এই ডাইভার্সিটিটাকে আমরা সম্মানের এবং শ্রদ্ধা করি। আমরা মনে করি এর মধ্য দিয়ে এনসিপি এগিয়ে যাবে এবং এই জিনিসগুলো পরবর্তীতে সময় নিয়ে বোঝানোর পরে অনেকটুকুই সমাধান হয়ে গিয়েছে।

আরটিএনএন: গণঅভ্যুত্থানের প্রধান দল হিসেবে এনসিপিকে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আপনাদের অগ্রাধিকার। নবনির্বাচিত সরকারকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কতটুকু আন্তরিক মনে করেন? আর যদি সরকার এটি বাস্তবায়নে টালবাহানা করে, তখন আপনাদের অবস্থান কী হবে?

আসিফ মাহমুদ: আমরা তো একেবারেই আন্তরিকতা দেখছি না। প্রথম শপথের দিনেই তারা এক ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি করেছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বরং বারবার সংবিধান লঙ্ঘন ও আইন লঙ্ঘনের কথা বলেছে। অথচ তারা নিজেরাই আইন লঙ্ঘন করেছে।

আগামী সংসদ অধিবেশন নিয়েও তারা বলছে যে, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণ করবে না। এর অর্থ হলো—সংস্কার কিংবা জুলাই সনদ নিয়ে জাতির প্রতি তাদের কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি নেই।

গণভোটে যে “হ্যাঁ” ভোট জয়যুক্ত হলো, যা এক ধরনের জনরায় তৈরি করেছে, সেটাকেও তারা কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে। বিএনপির জন্মই হয়েছে গণভোটের মধ্য দিয়ে এবং বিএনপির লেজিটিমেসিও তৈরি হয়েছে গণভোটের মধ্য দিয়ে। সেই গণভোটের মাধ্যমেই তখন জিয়াউর রহমান নিজেকে বৈধ রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

কিন্তু আজ সেই গণভোটকেই এবং গণভোটে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পরও “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সেটি তারা ভঙ্গ করছে। আমরা মনে করি এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

এ ক্ষেত্রে সংসদে আমাদের যেসব প্রতিনিধি আছেন, তারা সেখানে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন এবং প্রতিবাদ জানিয়ে যাবেন। পাশাপাশি আমরাও রাজপথে আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।

আরটিএনএন: স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এনসিপি কী ভাবছে? এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

আসিফ মাহমুদ: স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এনসিপি প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা সারাদেশে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। ইতিমধ্যে আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে প্রার্থী নির্বাচন এবং সম্ভাব্য প্রার্থী খুঁজে বের করার কাজ করছে।

অনেক আগ্রহী প্রার্থী আছেন। তাদের মধ্য থেকে যাচাই–বাছাই করে কারা আমাদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হবেন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আমার ক্ষেত্রে দল থেকে আমাকে প্রাথমিকভাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমি আমার জায়গা থেকে সেই প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছি।

এছাড়া দল থেকে যাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারাও কাজ শুরু করেছেন। বিশেষ করে আমরা বিগত নির্বাচনে যেসব জায়গায় আমাদের দুর্বলতা ছিল এবং যেখানে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে, সেসব জায়গা চিহ্নিত করে এখন কাজ করে যাচ্ছি।

আরটিএনএন: অন্য দলগুলো যখন প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চাকেই বেছে নিচ্ছে, তখন আগামী দিনে দল পরিচালনায় এনসিপির কর্মপন্থা কী হবে?

আসিফ মাহমুদ: আমরা গত এক থেকে দেড় বছরের রাজনৈতিক পথচলা ও পরিক্রমা বিশ্লেষণ করে আগামী সময়ের কৌশল নির্ধারণ করছি। বিগত সময়ে আমাদের যে দুর্বলতাগুলো ছিল—রাজনৈতিক বোঝাপড়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক অবস্থান—সেসব জায়গায় এখন আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।

আমরা একটি পলিসি-নির্ভর দল। কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ইচ্ছায় পরিচালিত হওয়ার দল নই। আপনারা জানেন, আমাদের সব সিদ্ধান্ত একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়। আমাদের দলের তিনটি ফোরাম রয়েছে এবং সেই তিনটি ফোরামের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই দল পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল কোনো না কোনো ব্যক্তি বা পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সেই জায়গা থেকে আমরা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা চাই ভবিষ্যতে এনসিপি একটি নীতিনির্ভর দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক—ব্যক্তিনির্ভর বা নেতা-নির্ভর দল হিসেবে নয়।

ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছি—আমাদের ফরেন পলিসি কী হবে, ফাইন্যান্স পলিসি কী হবে, দলের আর্থিক কাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা হবে এবং দল পরিচালনার পদ্ধতি কী হবে—এসব বিষয় নিয়ে আমাদের নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি।

আরটিএনএন: আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপিকে আপনি কোথায় দেখতে চান?

আসিফ মাহমুদ: আপাতত আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা মনে করি, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে এবং গ্রাসরুট পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ এখনো আগ্রহ নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা তাদের কাছে যেতে চাই এবং তাদেরকে আমাদের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে যুক্ত করতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমরা আমাদের সব নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি।

আমি নিজেও ‘নগর সংযোগ’ নামে একটি কর্মসূচি পালন করছি। আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাব। আমরা দেখেছি, অনেক মানুষ আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান, কিন্তু অনেক সময় তারা কীভাবে যুক্ত হবেন, সেই পথটা খুঁজে পান না বা বোঝাপড়ার ঘাটতি থাকে।

সেই জায়গাগুলোতে আমরা এখন কাজ করতে চাই—একেবারে নির্দিষ্ট বিষয় ও এলাকায়। এর মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারব বলে মনে করি।

আগামী নির্বাচনে আমরা একটি ভালো রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে চাই। আমরা এমন একটি অবস্থানে পৌঁছাতে চাই, যেখানে আমরা সরকার গঠনকারী দল কিংবা শক্তিশালী বিরোধী দল—যেকোনো একটিতে পরিণত হতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

আরটিএনএন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।

আসিফ মাহমুদ: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।