ভোলা, মা গ্রেপ্তার
বিবি সাওদা নামে ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতের একজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   ছবি: বিবিসি বাংলা

ভোলায় তিন বছরের বাকপ্রতিবন্ধী সন্তানের জননী বিবি সাওদাকে ‘ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে’ গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বিবি সাওদা ভোলা পৌরসভা মহিলা জামায়াতের একজন কর্মী বলে জানা গেছে। তার গ্রেপ্তারের ঘটনায় দলটির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলালের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘ঊর্ধ্বতনের নির্দেশে’ কাজ করার কথা জানান।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গভীর রাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন নারীকে এভাবে গ্রেপ্তার করা অমানবিক ও অনভিপ্রেত। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, বিবি সাওদার তিন বছরের একটি বাকপ্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, যে মায়ের স্নেহ ও পরিচর্যার ওপর নির্ভরশীল। এমন অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা মানবিকতা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।

তিনি অভিযোগ করেন, এ ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অগণতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জনগণ একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রত্যাশা করলেও এ ঘটনা তার ব্যতিক্রম।

বিবৃতিতে অবিলম্বে বিবি সাওদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয় এবং দেশে সুষ্ঠু, মানবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এ দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কারণে একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’ 

তিনি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান এবং এ ঘটনায় ঊর্ধ্বতন নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও জানান, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করা হয়েছে এবং ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া বা সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়। 

সমালোচনা করতেই পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় সরকারের প্রতি তিনটি আহ্বান জানান শিশির মনির। তিনি অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, গ্রেপ্তারকৃত নারীকে দ্রুত জামিনের আওতায় আনা এবং তার পরিবারের কাছে এ ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানান।