হাভিয়ের কাবরেরা
জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।   ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা তৃতীয় দফায় চুক্তি নবায়নের পর ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল।এখন প্রশ্ন হচ্ছে তার চুক্তি কি বাড়ানো হবে? নাকি তার সাথে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবলের যাত্রা এইখানেই শেষ? 

২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি নিয়োগ পাওয়া থেকে দীর্ঘ ৪ বছর ৩ মাস সময়কালে গত ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের সঙ্গে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ। এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নতুন কোচ আসছে? নাকি কাবরেরার সাথেই নতুন চুক্তি হচ্ছে?

১ থেকে ৯ জুন ফিফা উইন্ডোতে বিদেশের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে বাংলাদেশ। এ অল্প সময়ে কোচ পরিবর্তনে পথে বাফুফে তাই না-ও হাঁটতে পারে। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) বাফুফের জাতীয় দলের কমিটির সভা হওয়ার  কথা রয়েছে। তবে আলোচ্যসূচিতে কোচের বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা বলা নেই। আছে জাতীয় দলের সর্বশেষ দুটি ম্যাচ (ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর) নিয়ে আলোচনা। 
 
সিঙ্গাপুর ম্যাচে হারের পর মনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে কাবরেরারে বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, খুব শিগগির আমরা এ ধরনের ম্যাচগুলো জিততে শুরু করব। আমরা যদি এই জায়গাটুকুতে উন্নতি করতে পারি, তাহলে সম্ভবত আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ২০-৩০ ধাপ এগিয়ে থাকতে দেখা যাবে।’

গত ৪ বছর ৩ মাসে বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিং বেড়েছে মাত্র ৫-৬ ধাপ। কাবরেরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় ছিল ১৮৬, এখন ১৮১। মাঝখানে ছিল ১৮০। কাবরেরার আগপর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশিবার ডাগআউটে দাঁড়ান ইংলিশ কোচ জেমি ডে। ২৯ ম্যাচে ৯ জয়, ৫ ড্র ও ১৫ হার নিয়ে তার অধীনে  জয়ের হার ৩১ শতাংশ। জেমিকে ছাপিয়ে গেছেন কাবরেরা। তাঁর অধীন ৫১ মাসে বাংলাদেশ ৩৯টি ম্যাচ খেলেছে, যা দেশের ইতিহাসে কোনো কোচের অধীন সর্বোচ্চ ম্যাচের রেকর্ড। তবে এ দীর্ঘ সময়ে কাবরেরার জয়ের হার মাত্র ২৫.৪৭ শতাংশ। ৩৯ ম্যাচের মধ্যে জয় ও ড্র ১০টি করে, হার ১৯টি। বলার মতো জয় বলতে গেলে ২২ বছর পর ভারতকে হারানো। এছাড়া  ১০ জয়ের বেশির ভাগই মালদ্বীপ, ভুটান, কম্বোডিয়া ও সেশেলসের মতো দলের বিপক্ষে। কাবরেরার অধীন ২০২৩ সালের বেঙ্গালুরুতে ১৪ বছর পর সাফের সেমিফাইনালে ওঠা তাঁর বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হয়। 

কাবরেরার মেয়াদ শেষ, মেয়াদ বাড়ানো বা বিদায় নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পুরো বিষয়টি তাবিথ আউয়াল ছেড়ে দিয়েছেন জাতীয় দল কমিটির ওপর। সম্প্রতি তিনি গণমাধ্যমকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘জাতীয় দল কমিটির সভায় বিষয়টা আলোচনায় আসতে পারে। আমরা সবকিছু পর্যালোচনা করব। সামনে আমাদের ঠিক কী কী খেলা আছে, এখনো পরিষ্কার নই। সাফ কবে, তা–ও জানি না। আগামীর সূচি দেখে এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেব। খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের মতামত নেব।’

জাতীয় দলের ম্যানেজার আমের খান বলেন, ‘কারবেরা আমাকে বলেছেন, তাঁর মেয়াদ ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।’ 

শমিত, হামজাদের নিয়ে এশিয়া কাপে খেলাত স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতেও যেন বেশি দেরি হয়নি। ৬ ম্যাচে ১ জয় ও ২ ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে চার দলের টেবিলে তিনে থেকে ভারতের উপরে শেষ করেছে বাংলাদেশ। বাফুফের জাতীয় দল কমিটির এক সদস্যর মন্তব্য, ‘হাজমা-শমিতদের নিয়ে দলের শক্তি অনেক বেড়েছে। কিন্তু ফলাফলে তার প্রতিফলন কোথায়? দল ভালো খেলেছে এই আত্মতৃপ্তিতে চিড়ে ভিজবে না। কোচ বিদায় করা উচিত। একটা মানুষকে কত দিন রাখবেন আপনি?’

এছাড়া বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান কামরুল ইসলাম হিলটন বলেন, ‘আমরা অফিশিয়ালি কোনো কোচের বায়োডাটা চাইনি। কোনো বায়োডাটা জমা পড়েছে বলেও আমার জানা নেই।’

কমিটির আরেক সদস্য বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা অন্ধকারে থাকার কথা জানিয়েছেন। কাবরেরার ব্যাপারটা আলোচনায় এলে ভালো-মন্দ সবই বলবেন তিনি। ওই সদস্য বলেন, ‘আমাদের উচিত ছিল, নতুন কোচ খোঁজা। কিন্তু কোচ খোঁজ হচ্ছে কিনা, জানি না। ফর্টিস গ্রুপের অফিসে সর্বশেষ হওয়া জাতীয় দল কমিটির সভায় সভাপতি নতুন কোচ খুঁজতে বলেছিলেন। এরপর আর কিছু জানি না। অন্ধকারে আছি।’