বাংলাদেশ দলের সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক
বাংলাদেশ দলের সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক   ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের কিংবদন্তি বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন করে আশার আলো দেখছে দেশের ক্রিকেট, বিশেষ করে স্পিন বোলিং বিভাগ।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জরুরি বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের স্পিন কোচ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছিল, নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে রফিকের নামেই আস্থা রাখল বোর্ড।

প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া রফিক মূলত বাংলাদেশ ‘এ’ দল এবং হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের স্পিনারদের নিয়ে কাজ করবেন। তবে জাতীয় দলের প্রয়োজন অনুযায়ী মূল দলের সঙ্গেও তাকে যুক্ত করা হবে। ফলে তরুণ ও সম্ভাবনাময় স্পিনারদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটাররাও তার অভিজ্ঞতার ছোঁয়া পাবেন।

নিয়োগের পর বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রধান নাজমুল আবেদীন ফাহিম রফিককে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি রসিকতার সুরে বলেন, রফিককে দেখে এখনো মনে হয় না তিনি অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার; বরং তার ভেতরের তারুণ্য, উদ্যম এবং ইতিবাচক মনোভাব এখনও আগের মতোই অটুট। 

ফাহিমের মতে, এই শক্তি ও মানসিকতা তরুণ ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়াই বোর্ডের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আরও মনে করেন, রফিকের মতো একজন লড়াকু মানসিকতার মানুষ পাশে থাকলে তরুণ স্পিনাররা শুধু টেকনিক নয়, মানসিক দৃঢ়তাও অর্জন করতে পারবে।

রফিককে কোচ হিসেবে ভাবার পেছনে সাম্প্রতিক একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। কিছুদিন আগে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিসিবি আয়োজিত একটি ম্যাচে তার পারফরম্যান্স ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। বয়সকে যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সেই ম্যাচে তার পারফরম্যান্স বোর্ড কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং নতুন করে তাকে নিয়ে ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।

নিজের নতুন দায়িত্ব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রফিক তার স্বভাবসুলভ বিনয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাওয়া সব সময়ই গর্বের বিষয়। তিনি নিজেকে তাত্ত্বিক কোচ হিসেবে নয়, বরং মাঠের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার লক্ষ্য, নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা, যেন তারা বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লড়াই করতে পারে।

রফিকের এই নিয়োগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ভক্তদের পাশাপাশি সাবেক ক্রিকেটাররাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কোচদের প্রাধান্য দেওয়ার যে দাবি উঠছিল, অনেকেই মনে করছেন রফিকের নিয়োগ সেই দাবির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

আগামী সপ্তাহ থেকেই মিরপুর একাডেমি মাঠে স্পিনারদের নিয়ে কাজ শুরু করবেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ম্যাচ উইনার। তার হাত ধরে দেশের স্পিন বোলিং ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ হবে এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের।

বিসিবির অধীনে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা না থাকলেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে রফিকের। গত কয়েক বছর ধরে রংপুর রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। এ ছাড়া গ্লোবাল সুপার লিগেও (জিএসএল) রংপুরের স্পিন বোলিং কোচ ছিলেন রফিক। বাংলাদেশের হয়ে ৩৩ টেস্টের সঙ্গে ১২৫ ওয়ানডে এবং একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট নেয়ার কীর্তিও গড়েন তিনি।