সীমান্তে হত্যা, সরকার
বিএসএফ ভারত সরকারের নির্দেশে গত এক মাসে কোনো গুলি চালায়নি বলে জানা গেছে।   ছবি: সংগৃহীত

১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া নতুন সরকার প্রথম মাস পার করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, এই সময় সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি।

বুধবার (১৮ মার্চ) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্র জানায়, এক মাসে সীমান্তে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি। বিজিবিও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ মানুষ সীমান্ত রেখা বরাবর যাচ্ছে না। বিএসএফ ভারত সরকারের নির্দেশে গত এক মাসে কোনো গুলি চালায়নি। কেন কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি সেটা ওই দেশের সরকারই বলতে পারবে। তবে বিএসএফ সহযোগিতামূলক আচরণ করলেই ভালো। তারা এর আগে অবৈধভাবে প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহার করেছে। সরাসরি গুলি করে শত শত সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু ভারত সেটা করেছে। সবচেয়ে সমালোচিত সীমান্ত হত্যার একটি হলো- ‘ফেলানী হত্যাকাণ্ড’। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি সীমান্তে কিশোরী ফেলানীকে হত্যা করে বিএসএফ তার মরদেহ কাটাতাঁরের বেড়ায় ঝুলিয়ে রেখেছিল। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে ওই সময়।

বিজিবি সূত্রানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক তিনটি গুলির ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- তারা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে চোরাচালানের চেষ্টা করছিল। সেজন্য বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তারা নিহত হয়। তবে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত আর কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নিরীহ নাগরিক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন তা নিশ্চিত করতে গুলি না চালানো একটি ইতিবাচক বিষয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সীমান্ত হত্যা শূন্যের দিকে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে।’

গত বছর ২০২৫ সালে বিএসএফ-এর হাতে বাংলাদেশিদের হত্যা সংখ্যার তুলনায় নতুন সরকারের এক মাসের এই ফলাফল যথেষ্ট আশার বার্তা দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিএসএফ-এর হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হন। তবে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত এ সংখ্যা শূন্য।

সরকার বলেছে, সীমান্তে অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা বন্ধ করতে দিল্লিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।